অর্থনীতি সমিতির ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব করেছে।
সোমবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিকল্প বাজেট পেশ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোঃ আইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ  সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে টেকসই মধ্য মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে এই বিকল্প বাজেট উত্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন এই বাজেট প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে সমাজে বৈষম্য দূর, দারিদ্র্য নিরসন, সামাজিক সুরক্ষা, মূল্যস্ফীতি হ্রাস এবং  রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ এবং সদ্যবিদায়ী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত উপস্থিত ছিলেন।
অর্থনীতি সমিতি বিকল্প বাজেটের প্রস্তাবনায় বলেছে, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে সরকারকে অনেক উৎসে হাত দিতে হবে, যেসব উৎসে অতীতে কখনও হাত দেওয়া হয়নি অথবা প্রয়োজন মতো হাত দেওয়া হয়নি, যার অন্যতম হলো সম্পদ কর, অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর, অর্থ পাচার ও কালোটাকা উদ্ধার থেকে প্রাপ্তি এবং বিদেশি নাগরিকদের ওপর কর আরোপ।
অর্থনীতি সমিতির মনে করে, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের মধ্যে এখন পরোক্ষ করের ওপর তুলনামূলক বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে, যা মানুষে মানুষে বৈষম্য বাড়ায়। তাই পরোক্ষ করের তুলনায় প্রত্যক্ষ করের ওপর বেশি জোর দিতে হবে এবং দরিদ্র, নি¤œমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষকে সামনের কয়েক বছর আয়কর বেষ্টনির বাইরে রাখতে হবে।
অর্থনীতি সমিতির প্রস্তাবিত ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকার বিকল্প বাজেটে রাজস্ব আয় থেকে আসবে ১০ লাখ ২৪ হাজার ৭৬৭ কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট বাজেট বরাদ্দের ৯২.১৩ শতাংশ। আর বাজেটের বাকি ৭.৮৭ শতাংশ অর্থাৎ ১ লাখ ৭০ হাজার ৭১৯ কোটি টাকার ঘাটতি অর্থায়ন জোগান দেবে সম্মিলিতভাবে বন্ড বাজার (মোট ৯৫ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা; অর্থাৎ ঘাটতি অর্থায়নের ৫৬.১ শতাংশ), সঞ্চয়পত্র বিক্রয় থেকে ঋণ গ্রহণ (মোট ২৫ হাজার কোটি টাকা; ঘাটতি অর্থায়নের ১৪.৬ শতাংশ), এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব (মোট ৫০ হাজার কোটি টাকা, যেখান থেকে আসবে ঘাটতি অর্থায়নের ২৯.৩ শতাংশ)।
সমিতির প্রস্তাবে ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক ঋণের কোনো ভূমিকা থাকবে না, যা চলতি অর্থবছরের সরকারি বাজেটে ঘাটতি পূরণে ৩৯.৫ শতাংশ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রস্তাবিত বিকল্প বাজেট অর্থায়নে কোনো দেশি ও বৈদেশিক ঋণের প্রয়োজন হবে না। (বাসস)