দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের সংযমের ‘সীমা’ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দক্ষিণ চীন সাগর এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনে বেইজিংয়ের সংযম এবং ‘সীমা’ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
সিঙ্গাপুরে একটি নিরাপত্তা ফোরামে ফিলিপাইন এবং যুক্তরাষ্ট্র, যারা চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি এবং প্রভাবের মুখে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করছে তাদের প্রতি স্পষ্ট ইঙ্গিত করে ডং রবিবার এ কথা বলেন।
চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডং জুন সিঙ্গাপুরে শাংরি-লা ডায়ালগে বলেন,‘চীন অধিকার লঙ্ঘন এবং উস্কানির মুখে পর্যাপ্ত সংযম বজায় রেখেছে, তবে এর একটা সীমা রয়েছে।’ ডায়ালগে সারা বিশ্বের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।
ফিলিপাইন এবং যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিনের মিত্র এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জোট এবং অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টার মূল কেন্দ্রবিন্দু ম্যানিলা, যা বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করেছে।
দক্ষিণ চীন সাগরে তার অবস্থান এবং স্ব-শাসিত তাইওয়ানের নৈকট্য, যেটিকে চীন তার নিজের বলে দাবি করে,এর প্রেক্ষিতে যে কোনো সংঘাতে ফিলিপাইনের সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইউএস আর্মি এপ্রিলে বলেছে, তারা বার্ষিক যৌথ মহড়ার জন্য উত্তর ফিলিপাইনে স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল ৬ (এসএম-৬) এবং টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইল নিক্ষেপ করতে সক্ষম একটি মধ্য-পাল্লার ক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা স্থাপন করেছে।
ডং বলেন, ‘মাঝারি-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ মোতায়েন ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর’।
তিনি বলেন,‘এভাবে কার্যক্রম চালালে শেষ পর্যন্ত নিজেকেই পুড়িয়ে ফেলা হবে।’
বিতর্কিত প্রবাল উপকূলের কাছে চীনা এবং ফিলিপাইনের জাহাজগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক সংঘর্ষের পর ডং দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের সংযমের ‘সীমা’ সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন।
চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনী প্রতিদ্ব›িদ্ধতাপূর্ণ জলসীমায় ফিলিপাইনের নৌযানের বিরুদ্ধে একাধিকবার জলকামান ব্যবহার করেছে।এছাড়াও সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন ফিলিপিনো সৈন্য আহত হয়েছে।
ম্যানিলা এবং বেইজিংয়ের সামুদ্রিক আঞ্চলিক বিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, তবে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোসের অধীনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
চীন প্রায় সমগ্র দক্ষিণ চীন সাগরের দাবি করে, ফিলিপাইন সহ অন্যান্য প্রতিদ্ব›দ্ধী দেশগুলোর দাবি বাতিল করে।
মার্কোস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চেয়েছেন কারণ তিনি জলপথে চীনা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।
শুক্রবার নিরাপত্তা ফোরামে মন্তব্যে মার্কোস বলেন, ফিলিপাইন চীনা চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। (বাসস ডেস্ক)