বরগুনায় আগামীকাল আরও ৫৫২ জন গৃহহীন ঘর পাচ্ছে

জেলায় আগামীকাল আরও ৫৫২ জন গৃহহীনকে আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ২ শতাংশ জমিসহ ঘর দিচ্ছে সরকার। এসব সুবিধাভোগীদের জমির দলিল রেজিস্ট্রি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া বরগুনা জেলার বামনা উপজেলাকে ভূমিহীন মুক্ত ঘোষণা করা হবে।
আগামীকাল বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত স্বপ্নের লাল-সবুজের রঙে গড়া পাকা নীড় হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধন ঘিরে আনন্দে আত্মহারা বরগুনার গৃহহীন, ভূমিহীনরা।
বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, মুজিববর্ষে একজন মানুষও গৃহহীন বা ভূমিহীন থাকবে না, সে লক্ষ্যে বরগুনা জেলায়ও একজন মানুষও গৃহহীন বা ভূমিহীন থাকবে না। ভূমিহীন-গৃহহীন মুক্ত করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে তালিকা তৈরি করে ঘর নির্মাণের বরাদ্দ পেয়েছি, ঘর নির্মাণ করেছি। আশা করি, প্রতিটি উপজেলাই ভূমিহীন-গৃহহীন মুক্ত হবে। তিনি আরও বলেন, আগামী ২২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী বরগুনায় তৃতীয় পর্যায়ের অবশিষ্ট ও চতুর্থ পর্যায়সহ জেলায় মোট ৫৫২টি ঘর জমিসহ হস্তান্তর করবেন। তার মধ্যে বামনা উপজেলায় ৯২ জন ঘর পাবেন এবং বামনাকে ভূমিহীন মুক্ত ঘোষণা করা হবে।
পাথরঘাটা উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুফল চন্দ্র গোলদার জানান, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিকভাবে ঘরের কাজ স¤পন্ন করেছি। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনের পর এ উপজেলার ২০১ জনের হাতে সনদসহ সকল কাগজপত্র দেওয়া হবে।
সুবিধাভোগী শিল্পী ও উত্তম চন্দ্র দাস দ¤পতি জানান, নিজেদের জমিজমা না থাকায় আমরা সড়কের পাশে ঘর তুলে থাকতাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সরকারিভাবে ঘর দিচ্ছেন। সঙ্গে দুই শতাংশ জমি আমাদের স্বামী-স্ত্রীর নামে দলিল রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছেন।
বরগুনা ১ আসনের সাংসদ অ্যাড. ধীরেন্দ্র দেবনাথ শমভু জানান, বরগুনার পাথরঘাটা উপকূলীয় উপজেলা। এখানে যেমন অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে; তেমনি নদী ভাঙ্গনে অনেকেই ভূমিহীন হয়েছে। এছাড়াও এক শ্রেণির মানুষ বংশ পর¤পরায় ভূমিহীন। ঠিক এমন মানুষদের নীড় হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘর। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে ভূমিহীন, গৃহহীনদের ঘর-বাড়ি নির্মাণের জন্য সুদবিহীন ঋণ দেওয়ার নজির থাকলেও এভাবে লাখ লাখ পরিবারকে পুনর্বাসন সত্যিই বিরল। প্রতিটি পরিবারের স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে ভূমির মালিকানার দলিল, রেজিস্ট্রি ও নামজারি করে দেওয়া হচ্ছে যাতে করে তারা এ স¤পদের স্থায়ী মালিক হতে পারেন। শুধু বাড়ি করে দিয়েই বঙ্গবন্ধুকন্যা দায়িত্ব শেষ করেননি; -প্রতিটি পরিবার যাতে সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পায় সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করেছেন।