রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৮ হাজার ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জন্য আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ১৮ হাজার ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ বাবদ সংশোধিত বাজেট ছিল ১৭ হাজার ৬৮ কোটি টাকা আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ১৯ হাজার ১০ কোটি টাকা।
আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত বাজেট বক্তৃতায় তিনি এই প্রস্তাব করেন।
রেলপথ উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী  বলেন, যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে রেলখাতের উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, গত পনেরো বছরে দেশে ৯৪৭.৯৯ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এ সময়কালে ৩৪০ কিলোমিটার মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর, ১ হাজার ৩৯১ কিলোমিটার রেললাইন পুনর্বাসন/পুনর্নিমাণ, ১৪৮টি নতুন স্টেশন বিল্ডিং নির্মাণ, ২৩৮টি স্টেশন বিল্ডিং পুনর্বাসন/পুনর্নিমাণ, ১ হাজার ৬২টি নতুন রেলসেতু নির্মাণ, ৭৯৪টি রেলসেতু পুনর্বাসন/পুনর্নিমাণ, ১৩৭টি স্টেশনে সিগন্যালিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং চিলাহাটি এক্সপ্রেসসহ নতুন ১৪৪টি ট্রেন চালু করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মাস্টারপ্ল্যান, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক ও ২য় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা/টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এবং নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৪ অনুযায়ী বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, খুলনা হতে মোংলা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত ৬৪.৭৫ কি.মি. ব্রডগেজ রেলওয়ে লাইন নির্মাণ কাজ শেষে উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে বিদ্যমান বাংলাদেশ রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় পদ্মা সেতুর রেল সংযোগের সাথে মোংলা সমুদ্রবন্দরের সংযোগ স্থাপন হবে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আখাউড়া হতে লাকসাম সেকশনে ৭২ কি.মি. দ্বৈত লাইন নির্মাণ সম্পন্ন হবে। ইতোমধ্যে, ঢাকা হতে কক্সবাজার নতুন রেল যোগাযোগ চালু হওয়ায় উক্ত সেকশনটি ট্রান্সএশিয়ান রেলওয়ে এবং উপ-আঞ্চলিক করিডোরের একটি বড় অংশ হিসেবে কাজ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরে নতুন ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রো লোকোমোটিভ এবং ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ যুক্ত হবে এবং পুনর্বাসনকৃত ১০০টি এমজি যাত্রীবাহী ক্যারেজ রেল পরিবহনে সংযোজন করা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর ফলে যাত্রী সেবার মান, মালামাল পরিবহণ সক্ষমতা, রেলওয়ের পরিচালন দক্ষতা ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। (বাসস)