শরীয়তপুর সদরে অধিক তেল উৎপাদনশীল জাতের সরিষার আবাদ বেড়েছে

দেশের ভোজ্য তেলের ঘাটতি কমাতে ২০২২ সালে কৃষি বান্ধব সরকারের মহা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শরীয়তপুর সদর উপজেলায় বেড়েছে সরিষার আবাদ। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ে উদ্বুদ্ধকরণসহ প্রণোদনা সহায়তায় দুই বছরের ব্যবধানে অধিক তেল উৎপাদনশীল উন্নত জাতের সরিষার আবাদ বেড়েছে এক হাজার ৫১০ হেক্টর। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ উৎপাদন বৃদ্ধির কথা থাকলেও দুই বছরের ব্যবধানে উপজেলায় আবাদ বেড়েছে ৬০ শতাংশ। এর মাধ্যমে কৃষকরা শুধু নিজেদের চাহিদা মিটাতে পারবেন না নিরাপদ ভোজ্য তেলের নিশ্চয়তাসহ বাড়বে কৃষকের আয়ও।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অলি হালদার বাসস’কে বলেন, ২০২২ সালে সরকারের নির্দেশনা অনুয়ায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ তেল ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির কথা থাকলেও দুই বছরের ব্যবধানে আমরা ইতিমধ্যে উপজেলায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি।  প্রণোদনা কর্মসূচি, তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প, রাজস্ব কর্মসূচি ও বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রদর্শনী স্থাপন করে এ বছর সদর উপজেলায় তিন হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। আবাদকৃত জাতের মধ্যে রয়েছে বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৭, বারি-১৮, বিনা-৪, বিনা-৯ ও বিনা-১১ এবং স্থানীয় জাতের সরিষা। সরিষা আবাদ বৃদ্ধির ফলে শুধু স্থানীয় ভোজ্য তেলের চাহিদাই মিটবে না নিরাপদ তেলের সংস্থানসহ জাতীয় ঘাটতি পূরণেও সাহয়ক ভুমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদি।

উপজেলার চিকন্দি ইউনিয়নের ঢালীকান্দি গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম ঢালী বলেন, আগে আমরা স্থানীয় জাতের সরিষা আবাদ করে ৪ থেকে সাড়ে ৪ মণ ফলন পেতাম। গত দুই বছর যাবত কৃষি বিভাগের পরামর্শে বারি-১৮ জাতের সরিষা আবাদ করে ৭ থেকে ৮ মণ ফলন পাচ্ছি। দেশি জাতের এক ঘাইনে তেল হতো ৩ থেকে সাড়ে ৩ কেজি। এখন বিনা-১৮ জাতে এক ঘাইনে তেল হয় ৪ থেকে সাড়ে ৪ কেজি।
গত মৌসুমে আমি এক বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষা আবাদ করে ৮ মণ ফলন পেয়েছি। ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে এবার ৭ বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষা আবাদ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। আশা করছি বিঘায় ফলন ৮ মণের কম হবে না।

একই ইউনিয়নের কাচারিকান্দি গ্রামের কৃষক বেলায়েত বেপারী বলেন, গত বছর আমি কৃষি বিভাগের পরামর্শে ২ বিঘা জমিতে বিনা-১৪ জাতের সরিষা আবাদ করে সাড়ে ৮মণ করে ফলন পেয়েছি। এবার আমি সাড়ে ৪বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছি। বিঘাপ্রতি আমার খরচ হয়েছে ৮ হাজার টাকা। আশা করছি সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার ১ বিঘার সরিষা বিক্রি করতে পারবো ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নের দক্ষিণ গোয়ালদি গ্রামের কৃষক ফুলজান বিবি বলেন, বাজারে খাবার তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা সরিষার আবাদ বাড়িয়েছি। গত বছর সরিষা বুনেছিলাম ২ বিষা জমিতে, এবার বুনেছি ৫ বিঘা জমিতে। এখন আর আমাদের বেশি দামে বাজার থেকে সয়াবিন তেল কিনে খেতে হয় না। নিজেদের উৎপাদন করা সরিষা থেকে নিরাপদ তেল নিজেরাও খেতে পারি আত্মীয়-স্বজনকেও দিতে পারি। (বাসস)