কিলিয়ান এমবাপ্পের দুই গোলে সেনেগালকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করেছে ফেবারিট ফ্রান্স।
এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা এমবাপ্পে গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪। ব্র্যাডলি বারকোলা বাকি গোলটি করেছেন। এই জয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-আই’র মিশন শুরু করলো দিদিয়ের দেশ্যমের দল।
প্রথমার্ধ গোলশুন্য থাকার পর ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের দুর্দান্ত এক পাসে ডেডলক ভাঙ্গেন এমবাপ্পে। বিরতির আগে যেখানে ফ্রান্স মোটেই ছন্দ খুঁজে পায়নি, দ্বিতীয়ার্ধে তার থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের এগিয়ে নিয়ে গেছে। পিএসজি তারকা বারােলা দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ভাগে বদলী বেঞ্চ থেকে উঠে এসে একটি গোল করেছেন। স্টপেজ টাইমে বারকোলার ক্লাব সতীর্থ ইব্রাহিম এমবায়ে একটি সান্তনার গোল করেছেন। তবে ইনজুরি টাইমে দুর পাল্লার শট থেকে এমবাপ্পে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ এই গোলদাতা জাতীয় দলের জার্সিতে করেছেন ৫৮ গোল।
ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে বলেন, ‘আমি দেশের জন্য ইতিহাস রচনা করতে মাঠে নামি। দলের ফাইনাল খেলা নিশ্চিত করতে চাই এবং অবশ্যই বিশ্বকাপ জিততে চাই। এটা আমাদের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ। আমি মনে করি আমাদের কাছে প্রত্যাশার মাত্রাটা অনেক বেশী। কিন্তু আমাদের নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা উপহার দিয়ে প্রতি ম্যাচে এগিয়ে যেতে হবে।’
দিদিয়ের দেশ্যমের ওলিসেকে রাইট-উইংয়ে সরিয়ে নেবার সিদ্ধান্ত ছিল দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের জন্য ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। যদিও পুরো ম্যাচের স্পটলাইট ছিল স্বাভাবিক ভাবেই ৯৯তম ম্যাচ খেলতে নামা এমবাপ্পের উপর। ২০১৮ সালে ফাইনালে শিরোপা জয়ী ফ্রান্সের হয়ে গোল করা, এরপর ২০২২ কাতার বিশ^কাপের ফাইনাওে হ্যাটট্রিক- এসবই এমবাপ্পেকে দিয়েছে দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ের তকমা।
জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি গার্ড মুলারকে স্পর্শ করেছেন। তার সামনে শুধু রয়েছেন ব্রাজিলিয়ান রোনাল্ডো (১৫) ও মিরোস্লাভ ক্লোসা (১৬) এবং লিওনেল মেসি (১৬)।
দেশ্যম বলেন, ‘এটার স্বস্তির। আমরা কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম। শুরুটা ভাল হয়নি। কিন্তু ভাল একটি দলের বিপক্ষে আমরা দ্রুতই ছন্দে ফিরেছি।
প্রতিভাবান স্কোয়াডের আত্মতুষ্টি নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত ছিলেন দেশ্যম। তার উপর প্রতিপক্ষ সেনেগালের অতীত ইতিহাসও ফ্রান্সের জন্য সুখকর নয়। ২০০২ বিশ^কাপে চ্যাম্পিয়ন ও ফেবারিট হিসেবে মাঠে নমে প্রথম ম্যাচেই লায়ন্স অব তেরাঙ্গার কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল ফ্রান্স। সেই পরাজয়ের ক্ষতি থেকে আর বেরিয়ে আসতে পারেনি, গ্রুপ পর্ব থেকেই তাদের বিদায় নিতে হয়।
অভিজ্ঞ সাদিও মানের নেতৃত্বে সেনেগাল দারুনভাবে শুরু করেছিল। দলে রয়েছেন ফ্রান্সে জন্ম নেয়া চারজন খেলোয়াড়। জানুয়ারিতে আফ্রিকান নেশন্স কাপের পর এই প্রথম কোন প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক ম্যাচ খেলতে মাঠে নেমেছিল সেনেগাল। প্রথমার্ধে তারাই ফ্রান্সের তুলনায় ভাল খেলেছে। নিকোলাস জ্যাকসন ২৫ মিনিটে প্রায় গোলই করে ফেলেছিলেন। কিন্তু তার শট পোস্টে লেগে ফেরত আসে। ইসমালিয়া সার ইনজুরি টাইমে সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ওলিসেকে রাইট-উইংয়ে পেয়ে ফ্রান্স উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। মানের চ্যালেঞ্জের বিপরীতে ফ্রান্স পেনাল্টির আবেদন করে সফল হতে পারেনি। ৬৬ মিনিটে ওলিসের হাত ধরেই আসে প্রথম গোল। তার দুর্দান্ত এ্যাসিস্টে এমবাপ্পে কোন ভুল করেননি। আদ্রিয়েন রাবোয়িতের দারুন এক পাসে বদলী খেলোয়াড় বারকোলা ব্যবধান দ্বিগুন করেন। ৯৫ মিনিটে এমবায়ে এক গোল পরিশোধ করলেও পরের মিনিটে এমবাপ্পে নিজে দ্বিতীয় গোলের পাশাপাশি দলের জয় নিশ্চিত করেন।