
ঐতিহাসিক যশোর রোডের চার হাজারের বেশি শতবর্ষী গাছ কাটা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ছয় মাসের স্থিতাবস্থা জারির আদেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। এই আদেশের ফলে ওই সড়কের গাছগুলো এখন আর কাটা যাবে না বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
হিউম্যান রাইটসঅ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেয়।
জানুয়ারির শুরুতে যশোর জেলা প্রশাসনের এক বৈঠকে যশোর রোড হিসেবে পরিচিত বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে যশোর পর্যন্ত সড়কের সম্প্রসারণে দুই পাশের কয়েক হাজার গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর থেকেই সারা দেশে প্রতিবাদ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এক সময়ের পূর্ব বঙ্গ থেকে কলকাতা যাওয়ার প্রধান সড়ক পথ যশোর রোডের দুই পাশে দুইশর বেশি গাছ রয়েছে দেড়শরও বেশি বছর বয়সী। সড়ক সম্প্রসারণের জন্য এই গাছগুলোর কাটার পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছে সড়ক বিভাগ; তবে তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে বিভিন্ন সংগঠন।
এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ যশোর রোডের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিও জড়িত। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে লাখ লাখ শরণার্থী এই রোড দিয়ে ভারতে গিয়েছে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন জানাতে এলে এই সড়কটি নিয়ে কবিতা লিখেছিলেন আমেরিকান কবি অ্যালেন গিনসবার্গ। তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেও এ সড়কটির রয়েছে ঐতিহাসিক অবস্থান।
ঐতিহাসিক যশোর রোডের ‘চার হাজারেরও বেশি’ শতবর্ষী গাছ কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কয়েকদিন আগে প্রশাসনকে আইনি নোটিসও পাঠিয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে যশোর রোড বলতে দমদম থেকে বনগাঁর পেট্রোপোল সীমান্ত পর্যন্ত মহাসড়ককে বোঝায়; ওই সড়কের পাশে গাছ কাটায় কলকাতা হাই কোর্টের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল বলে তুলে ধরা হয় ওই শিক্ষকের আইনি নোটিসে।
এদিকে যশোর রোডের গাছগুলো সংরক্ষণ করে রাস্তা তৈরি সম্ভব বলে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপার নেতারা। তাদের ভাষ্য, বিদ্যমান রাস্তার উত্তর বা দক্ষিণ কিংবা উভয় পাশ দিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা করা যেতে পারে। সেখানে এক পাশ দিয়ে থাকবে সাধারণ কম গতির যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা।
এই রাস্তা দুই লেনের হলেই চলবে বাপা নেতারা বলেছেন, মাঝে থাকবে গাছের সারি। এই লেনের জন্য মাটির কাজও বেশি করা দরকার হবে না।
পাবনা ও সিরাজগঞ্জে এ ধরনের রাস্তা নির্মাণ করে ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ও বৃক্ষরাজি রক্ষা করে সড়ক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানান তারা।
আজকের বাজার: সালি / ১৮ জানুয়ারি ২০১৮