জেলায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাংবাদিক অবহিতকরণ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং ঝালকাঠি সিভিল সার্জন অফিসের বাস্তবায়নে আজ বুধবার দুপুর ১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও পৌর প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাসুম ইফতেখার, জেলা তথ্য কর্মকর্তা লেলিন বালা, ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আককাস সিকদার এবং সাধারণ সম্পাদক আসম মাহমুদুর রহমান।
সভায় বক্তারা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই নির্ধারিত বয়সী সব শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সভায় জানানো হয়, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১০ হাজার ১১ শিশুকে এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৭২ হাজার ৪৯০ শিশুসহ মোট ৮২ হাজার ৫০১ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
আরও জানানো হয়, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের একটি এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের একটি করে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। পাশাপাশি নবজাতককে জন্মের পরপরই শালদুধসহ মায়ের দুধ খাওয়ানো, প্রথম ৬ মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ প্রদান এবং ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি সুষম খাবার খাওয়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়। এছাড়া রাতকানা, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া, হাম ও মারাত্মক অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর বিষয়েও সচেতন করা হয়।
সভায় জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত ও প্রশ্ন উত্থাপন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার জবাব দেন।