পরিবহণ ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়নি: উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ সাশ্রয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে।

তিনি বলেন, ‘দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেলের সিংহভাগই (৮২ শতাংশ) ডিজেল হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সাহায্য করবে।’

আজ শনিবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

ব্রিফিংয়ে আরও বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘সারাবিশ্বে এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেক বাড়লেও সরকার দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। জুন মাসের জন্য স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে তিন ধরনের জ্বালানি- পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটার প্রতি ৫ টাকা বাড়াতে হলেও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।’

ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, দেশে প্রতি মাসে ৩ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ব্যবহৃত হয়, যা মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৮২ শতাংশ। ডিজেল মূলত পণ্যবাহী ট্রাক, গণপরিবহণ ও কৃষি সেচকাজে ব্যবহৃত হয়, যার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি স্বার্থ জড়িত।

তিনি আরও বলেন, ‘পেট্রোল ও অকটেন মূলত বিত্তবানদের ব্যক্তিগত গাড়িতে ব্যবহৃত হয়, যার মাসিক ব্যবহারের হার যথাক্রমে মাত্র ৯ ও ৮ শতাংশ। ফলে পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়লেও তা সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের যাতায়াত বা নিত্যপণ্যের দামে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।’

বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ ও নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষা সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গণশুনানি শেষে সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ালেও সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থে নিজে উদ্যোগী হয়ে পুনরায় আপিল করেছে। এর ফলে শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী ‘লাইফলাইন’ গ্রাহক এবং প্রথম ধাপের (৭৫ ইউনিট পর্যন্ত) গ্রাহকদের বর্ধিত মূল্যের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৬৫ শতাংশই এই দুই শ্রেণির আওতাভুক্ত। ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের পরও দেশের সিংহভাগ মানুষকে বাড়তি ব্যয়ের চাপ থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, এই দাম বৃদ্ধির পরও সরকারকে আগামী বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

অতীতের ভুল নীতি ও বর্তমান সংস্কারের কথা উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অতীতে জ্বালানি খাতকে আমদানিনির্ভর করে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে (অলিগার্ক) সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, যার ফলে অনশোর গ্যাস অনুসন্ধান প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। বর্তমান সরকার এই চক্র ভাঙতে অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

পাশাপাশি সোলার এনার্জি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সোলার চালিত বা ইলেকট্রিক স্কুল বাসের মতো পরিবেশবান্ধব পরিবহণকে বিশেষ প্রণোদনা দিচ্ছে।

উপদেষ্টা বলেন, সরকার কেবল ভর্তুকি কমানোর দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে না, বরং সংগৃহীত অর্থ দিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী (যেমন ফ্যামিলি কার্ড ও টিসিবি কার্যক্রম) আরও শক্তিশালী করছে। তিনি অযৌক্তিকভাবে বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান।