মাগুরায় ১ লাখ ২৯ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

জেলার ১ লাখ ২৯ হাজার ৬৭৫ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২৮ জুন ( রোববার) দেশব্যাপী জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

মাগুরা জেলায় “জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬” সুষ্ঠু ও সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভায় আজ এ তথ্য জানানো হয়। আজ সকালে মাগুরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান এবং সিভিল সার্জন অফিস এই সভা আয়োজন করে।

সভায় জানানো হয়, মাগুরা জেলার ৪টি উপজেলা (সদর, মহম্মদপুর, শালিখা ও শ্রীপুর) এবং পৌরসভায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সর্বমোট ১ লাখ ২৯ হাজার ৬৭৫ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী ১৪ হাজার ৩৬৯ জন শিশুকে নীল রঙের এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ১ লাখ ১৫ হাজার ৩০৬ জন শিশুকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

ক্যাম্পেইনটি সফল করতে জেলাজুড়ে মোট ৯৪১টি কেন্দ্র (৪টি স্থায়ী, ৯৩৬টি আউটরিচ এবং ১টি অতিরিক্ত কেন্দ্র) প্রস্তুত করা হয়েছে। এই কার্যক্রম তদারকি ও পরিচালনায় মাঠপর্যায়ে ১ হাজার ৯৯৯ জন মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক এবং ১১৭ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত থাকবেন।

মাগুরা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির ক্যাম্পেইনের কারিগরি ও বাস্তবায়ন রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, ভিটামিন ‘এ’ কেবল শিশুদের অন্ধত্বই রোধ করে না, বরং এটি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে।

তিনি বলেন, আমরা মাগুরা জেলার প্রতিটি প্রান্তে, বিশেষ করে দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া এলাকার একটি শিশুও যেন এই সুবিধা থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আমাদের ৯৪১টি কেন্দ্রের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা প্রস্তুত রয়েছেন। অভিভাবক ও সুশীল সমাজের সহযোগিতায় আমরা শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব বলে আশাবাদী।

মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. ইমতিয়াজ হোসেন এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জাতীয় এই কর্মসূচি সফল করতে স্থানীয় সরকার প্রশাসন সিভিল সার্জন কার্যালয়কে সব ধরনের প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করবে। প্রতিটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘কোনো প্রকার অপপ্রচার বা গুজবে কান না দিয়ে নির্দিষ্ট দিনে নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার জন্য আমি মাগুরার সব সচেতন অভিভাবকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

পুরো ক্যাম্পেইনটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা তথ্য অফিস ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে জেলাজুড়ে ব্যাপক মাইকিং ও প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. দেবপ্রিয় সরকারের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।