সরকারি দপ্তরে শূন্য পদে নিয়োগের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসগুলোতে বর্তমানে সাড়ে ৪ লাখের বেশি পদ শূন্য রয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক শূন্য পদ পূরণে ইতোমধ্যে সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

তিনি আজ সংসদে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের টেবিলে উপস্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, গত ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জনবল সংক্রান্ত হালনাগাদকৃত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত ‘স্ট্যাটিসটিক্স অব পাবলিক সার্ভেন্টস ২০২৪’ অনুযায়ী এই চিত্র সামনে এসেছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের সরকারি অফিসগুলোতে বর্তমানে সর্বমোট শূন্য পদের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে শূন্য পদের সংখ্যা ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, যা ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের আওতাভুক্ত। দ্বিতীয় শ্রেণিতে অর্থাৎ ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডে শূন্য পদ রয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি। সবচেয়ে বেশি শূন্য পদ রয়েছে তৃতীয় শ্রেণিতে, যার পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি এবং এগুলো ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণিতে অর্থাৎ ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ খালি রয়েছে। এর বাইরে অনারারি, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত ও চুক্তিভিত্তিক অন্যান্য ক্যাটাগরিতে আরও ৮ হাজার ১৩৬টি শূন্য পদ রয়েছে।

আব্দুল বারী আরও জানান, এই বিশাল সংখ্যক শূন্য পদ পূরণের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ৬ মাস, ১ বছর এবং ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ৬ মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৮৭৯টি শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি আগামী ১ বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ৩ হাজার ১১০টি শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ’-এর লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য প্রেরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।